লিখেছেন: [BDS Bulbul Ahmed]
ক্যাটাগরি: আন্তর্জাতিক ও প্রতিরক্ষা
সময়: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ | সন্ধ্যা ৬:৩০
এক দশকেরও বেশি সময় পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত প্রথম সরাসরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর। পাকিস্তানের ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেলে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশ চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিতের ‘সময়সীমা’ নিয়ে একমত হতে পারেনি। এনডিটিভি, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই কূটনৈতিক অচলাবস্থার নেপথ্য কাহিনী।
আলোচনার টেবিলে ওয়াশিংটন প্রস্তাব দেয় যে, ইরানকে তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম আগামী ২০ বছরের জন্য স্থগিত রাখতে হবে। অন্যদিকে, তেহরান সর্বোচ্চ ৫ বছরের জন্য এই সীমাবদ্ধতা মানতে রাজি। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, দীর্ঘমেয়াদী নিয়ন্ত্রণ ছাড়া কোনো চুক্তিই কার্যকর হবে না। তবে বিশ্লেষক ইয়ান ব্রেমার মনে করছেন, শেষ পর্যন্ত ১২ বছরের একটি মধ্যপন্থা বা আপস ফর্মুলায় দুই দেশ পৌঁছাতে পারে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, দুই পক্ষ আলোচনার প্রায় ৮০ শতাংশ পথ পাড়ি দিয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় আলোচনা ভেঙে যায়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থাহীনতার প্রশ্ন তুলে বলেন, “কূটনৈতিক আলোচনা চলাকালে আক্রমণ না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরও কীভাবে আমরা আপনাদের বিশ্বাস করব?” উল্লেখ্য, জেনেভায় আগের বৈঠকের মাত্র দুই দিন পরই ইরানে হামলা হয়েছিল, যা তেহরানের সন্দেহকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, তেহরান এখনো ওয়াশিংটনের এই মূল লক্ষ্যটি পুরোপুরি অনুধাবন করতে পারেনি। এই অনড় অবস্থানের কারণেই ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনা কোনো ফল ছাড়াই শেষ হয়।
বিডিএস পর্যবেক্ষণ: ইসলামাবাদের এই বৈঠকে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ থাকায় এবং প্রতিনিধিদের বারবার বাইরে গিয়ে নিজ দেশের সাথে যোগাযোগ করতে হওয়ায় আলোচনার গতি ব্যাহত হয়েছে। তবে ৮০ শতাংশ অগ্রগতি হওয়া মানে হলো—উভয় পক্ষই যুদ্ধের চেয়ে শান্তির পথকে গুরুত্ব দিচ্ছে। ট্রাম্পের অধীনে এই আলোচনা সফল হলে তা হবে বর্তমান শতকের অন্যতম বড় কূটনৈতিক বিজয়।
| আলোচনার বিষয় | বর্তমান পরিস্থিতি |
| ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ | যুক্তরাষ্ট্র চায় ২০ বছর, ইরান চায় ৫ বছর। |
| হরমুজ প্রণালী | প্রণালীটি খুলে দেওয়া এবং নৌ অবরোধ শিথিল করা। |
| নিষেধাজ্ঞা | ইরানের ওপর থেকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার। |
| পরবর্তী পদক্ষেপ | খুব শিগগিরই দ্বিতীয় দফা বৈঠকের সম্ভাবনা। |
ইসলামাবাদ বৈঠক ব্যর্থ হলেও আলোচনার দরজা বন্ধ হয়ে যায়নি। ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান আবারও যোগাযোগের চেষ্টা করছে এবং চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। খুব সম্ভবত আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দ্বিতীয় দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে পারমাণবিক সময়সীমার এই জট খোলার চেষ্টা করা হবে।
আপনার মতামত: আপনি কি মনে করেন ইরান শেষ পর্যন্ত ১২ বছরের সমঝোতায় রাজি হবে? নাকি ২০ বছরের দাবিতেই অটল থাকবে আমেরিকা? কমেন্টে জানান।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |